October 14, 2026, 3:59 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

কলকাতায় মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, ১৪৪ ধারা জারি

যমুনা নিউজ বিডি: কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রান ওয়ের পাশে থাকা মসজিদে নামাজ বন্ধের কারণে শুক্রবার (১৭ জুলাই) মুসলিম ধর্মালম্বীদের পথে নামার ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে তিনি মুসলিমদের এয়ারপোর্ট লাগোয়া বাঁকড়া এলাকার ৭ নম্বর গেটের সামনে আসার অনুরোধ করেন। তবে সেখানে সকাল থেকে বিধাননগর কমিশনারের পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে যে, ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) এই এলাকায় জারি করা হয়েছে। তাই একসঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েত হওয়া যাবে না।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর করা নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে মসজিদে প্রবেশপথের সামনে বাঁকড়া এলাকা। কাউকেই জমায়েত হতে দিচ্ছে না পুলিশ। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ১ কোটি মুসলমানকে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানিয়ে নামাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। বিমানবন্দরটিতে থাকা ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করার এমন আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে জমায়েতের আহ্বান জানিয়ে সিদ্দিকুল্লা বলেন, ‘১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদে অন্যায় ও অবৈধভাবে নামাজ বন্ধের বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ এলাকার লোকজন ওখানে নামাজ পড়তে যাবে। আমি অনুরোধ করব আমাদের যেন নামাজ আদায় করতে দেয়া হয়। যদি ঢুকতে না দেয় তাহলে ধস্তাধস্তি করব না। আমরা শান্তিপ্রিয়, আর বাংলার ১ কোটি মুসলমানদের কাছে অনুরোধ কালো ব্যাজ পরে নামাজ পড়তে যান। আল্লাহর কাছে দোয়া করে চলে আসুন। কোনো বিক্ষোভ প্রদর্শনের দরকার নেই। কোনো মাইকিং, ক্যানভাস কিছু থাকবে না।’

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘যদি সত্যিই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত একটি নোটিশ দেয়া যেত। গত ২৪ বছর ধরে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সরকারি যোগাযোগ রয়েছে। একটি চিঠি দেয়া বা আলোচনায় বসতে তাদের অসুবিধা কোথায় ছিল? তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে থাকেন। আমরা বারবার পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের কথা বলছি না। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিষয় নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। কেন্দ্র সরকারের উচিত দারুল উলুম দেওবন্দ, জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা। প্রয়োজন হলে আমরাও তাদের সঙ্গে থাকব, যাতে আইন মেনে এবং আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে স্থানান্তরের সমাধান করা যায়, তা নির্ধারণ করা যায়।’

এ বিষয়ে বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট থানায় গেলেও তাদের অভিযোগ নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সিদ্দিকুল্লা। তার অভিযোগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহযোগিতা মেলেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১১ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনবার ফোন করেছি। এয়ারপোর্ট থানায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় দু’ঘণ্টা ধরে ঘুরেছি। কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনও মনে করেননি। তবুও আমরা বলতে চাই, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। গোটা বাংলায় এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে আমরা আইন ভেঙেছি। আমরা সব সময় আইন মেনেই চলেছি।’

দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার আবার বলছেন, ‘এই বাংলায় কোনো জামাতি, শরিয়তি আইন চলবে না। এখানকার শান্তিপূর্ণ মুসলমান ভাইদের কাছে অনুরোধ কারও উস্কানিতে আইন ভাঙার কাজ করবেন না। এখানে দেশ সবার আগে। নিরাপত্তা সবার আগে।’ তার সাফ কথা, নিরাপত্তা, দেশের প্রশ্নে কখনও ধর্ম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

মসজিদ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘ওই এলাকায় যদি মসজিদ না হয়ে হনুমানজির মন্দিরও থাকত, সেটিকেও সরানো হতো।’

প্রসঙ্গত, এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য গৌরীপুর জামে মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া সূত্রে জানানো হয়েছে, এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই মসজিদ অন্যত্র সরানো দরকার। মসজিদটির জন্য প্রবলভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে এই মসজিদ। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক।

এছাড়াও যারা বিমানবন্দরের ভেতরে নামাজ পড়তে ঢুকছেন, তাদের জন্য কোনো বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তারা নামাজ পড়েন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য এই বিষয়টিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বলছে কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD